admin ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১২:০৮ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রান্ত পারভেজ : রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর এলাকায় অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানার সামনে পার্কিংয়ের নামে প্রকাশ্য চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। সংঘবদ্ধ একটি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ—চিড়িয়াখানার সামনে দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে (ইউ-টার্ন) চলে যেতে চাইলেও চালকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চালক ও যাত্রীদের হেনস্তা করার ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভাইরাল ভিডিওতে তোলপাড়
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন উবার চালক যাত্রী নামিয়ে চিড়িয়াখানার সামনে থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে কয়েকজন যুবক তাকে থামিয়ে একটি ‘পার্কিং টোকেন’ ধরিয়ে দেয় এবং ৫০ টাকা দাবি করে। চালক গাড়ি পার্ক না করার যুক্তি দেখালেও চক্রটি তা মানতে নারাজ। উল্টো তাকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি দেওয়া হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনরা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

যেভাবে চলে এই ‘টোকেন বাণিজ্য’
সরেজমিনে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চিড়িয়াখানা গেট ও সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি গ্রুপ ভাগ হয়ে এই টাকা আদায় করে। তাদের হাতে থাকে ছাপানো টোকেন, যেখানে কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষের সিল বা স্বাক্ষর থাকে না।
টার্গেট: সিএনজি, উবার কার এবং ব্যক্তিগত যানবাহন।
পদ্ধতি: গাড়ি থামলেই বা ঘোরানোর চেষ্টা করলেই গতিরোধ করা হয়। হুমকি: টাকা না দিলে গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর বা চালককে মারধরের ভয় দেখানো হয়।
মিরপুর এলাকার নিয়মিত যাতায়াতকারী এক যাত্রী বলেন, “এটি কোনো পার্কিং ফি নয়, এটি সরাসরি ডাকাতি।চিড়িয়াখানা একটি বিনোদন কেন্দ্র, সেখানে মানুষ পরিবার নিয়ে আসে। কিন্তু গেটের সামনেই যদি এমন চাঁদাবাজদের মুখে পড়তে হয়, তবে নিরাপত্তার জায়গা আর কোথায় থাকে? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “রাজধানীর বুকে এভাবে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চলছে, দেখার কি কেউ নেই? প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে এই চক্রটি সাহস পায়?”
এ বিষয়ে স্থানীয় ট্রাফিক পুলিশ ও থানা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, অবৈধভাবে রাস্তা দখল করে টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুতই এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তারা আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, লোকদেখানো অভিযান নয় বরং স্থায়ীভাবে এই চাঁদাবাজ চক্রকে নির্মূল করে দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিত করা হোক।

















