admin ২২ এপ্রিল ২০২৬ , ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
প্রান্ত পারভেজ : সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে ক্রমেই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। সাম্প্রতিক সময়ে গতকাল দফায় দফায় চট্টগ্রাম সিটি কলেজে-এ ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের পর এই উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়েছে অন্যান্য ক্যাম্পাসেও। এতে করে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, উদ্বেগে রয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকরা।

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘর্ষের পর থেকেই বিভিন্ন ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক স্লোগান ও পাল্টাপাল্টি অবস্থান লক্ষ করা যাচ্ছে। একদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নেতাকর্মীরা প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর কর্মীরাও পাল্টা স্লোগানে মাঠ গরম রাখছে। এতে করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পড়াশোনার পরিবেশ ক্রমেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ক্লাস ও পরীক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে। অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন সংঘর্ষের মঞ্চে পরিণত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। শিক্ষার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে শিক্ষার্থীরা সহিংসতা ও বিভাজনের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, শুধু প্রশাসনিক তৎপরতা নয়, রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, ক্যাম্পাসকে রাজনৈতিক সহিংসতা থেকে মুক্ত রাখতে হলে কার্যকর নীতিমালা ও কঠোর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। অন্যথায়, এই অস্থিরতা ধীরে ধীরে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে এবং ছাত্রসমাজকে ঠেলে দিতে পারে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে।

















