অপরাধ

পল্লবীর চিহ্নিত মাদক সম্রাজ্ঞী শাহজাদীর ১৫ আগস্টের গোপন আয়োজন নিয়ে জনমনে ক্ষোভ

  admin ১৪ আগস্ট ২০২৫ , ১২:১৩ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রান্ত পারভেজ : রাজধানীর পল্লবী এলাকার চিহ্নিত মাদক সম্রাজ্ঞীখ্যাত শাহজাদীকে ঘিরে ফের তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ১৫ আগস্ট শোক দিবস পালনের উদ্দেশ্যে শাহজাদী সম্প্রতি একটি মহিষ ও দুটি গরু এনেছেন। তবে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তিনি অজুহাত দেখিয়ে দাবি করেন, মহিষটি আসলে মহররম এর চল্লিশা উপলক্ষে আনা হয়েছে, এবং দুটি গরু নাকি তার নিজের পরিবারের খাওয়ার জন্য জবাই করা হবে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, কেউ কি কখনো পরিবারের মাংস খাওয়ার জন্য একসাথে দুটি গরু নিয়ে আসে? তাহলে এই শাহজাদীর এত আয়ের উৎস কোথায়? তাদের দাবি, এ ধরনের ব্যাখ্যা দিয়ে মূল উদ্দেশ্য আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পুরনো প্রভাবশালী সম্পর্ক

এলাকাবাসী জানান, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা পালানোর আগে পর্যন্ত শাহজাদী ছিলেন ঢাকা ১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লাহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সে সময় তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন বছর যাবত মাদক ব্যবসা চালিয়ে গেছেন। সরকারের পরিবর্তনের পরও নানাভাবে প্রভাব খাটিয়ে সেই অবৈধ কার্যক্রম এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের।

মাদক ব্যবসার আড়ালে রাজনৈতিক আশ্রয়

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহজাদী শুধু নিজেই নয়, তার সহযোগী চক্রও পল্লবী ও আশপাশের এলাকায় মাদক সরবরাহ ও বিক্রির সাথে জড়িত। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়াও, বেশ কয়েকবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। গ্রেফতার হওয়ার পর সেই সকল পুলিশের বিরুদ্ধে আবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ ও জানিয়ে তাদেরকে ফাঁসানোর চেষ্টাও করেছেন বেশ কয়েকবার। তবে এখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে সেই রমরমা মাদক ব্যবসা। পল্লবী থানার পেছনের ক্যামটি তার একটি মাদকের অভয় অরণ্য। এলাকাবাসীর ভাষ্য, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক যোগাযোগ এখনো সক্রিয়। তাইতো ১৫ আগস্ট পালনে মরিয়া তিনি।

জনমনে ক্ষোভ ও প্রশাসনের ভূমিকা

এ ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, বর্তমানে প্রকাশ্যে ১৫ আগস্ট পালন করা যেখানে সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ, সেই কাজ প্রকাশ্যে করার চেষ্টা করা এটা কত বড় দন্ডনীয় অপরাধ। সাধারণ মানুষের দাবি, প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন করুক, এবং অবৈধ কার্যকলাপে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিক।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিউল এর সাথে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমরা অবগত নয়। তবে, সত্য প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আরও খবর:

Sponsered content