admin ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার কালিঞ্জার ইছামতি নদী থেকে আবারও বেপরোয়াভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন শুরু করেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী বালু খেকো চক্র। প্রশাসনের জরিমানা এবং সরকারি নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করেই গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে এই কর্মকাণ্ড। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদী ভাঙনসহ কৃষি জমি ও জীববৈচিত্র্য বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও কালিঞ্জা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে গতমাসে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড। সে সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্তদের ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু সেই জরিমানার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে চক্রটি। গত এক সপ্তাহ ধরে তারা প্রকাশ্যেই বেশ কয়েকটি ভেকু মেশিন বসিয়ে বালু প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ ট্রাক বালি বিক্রি করছেন তারা। এতে করে প্রতিদিন দেড় লাখ থেকে ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন চক্রটি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের যথাযথ তদারকির অভাবেই এই চক্রটি বারবার সাহস পাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “একবার জরিমানা করার পর প্রশাসন যদি নিয়মিত নজরদারি রাখত, তবে তারা আবারও নদী কাটার সাহস পেত না।” আবার অনেকের ধারণা, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে বালু খেকোদের গোপন যোগসাজশ থাকতে পারে, যার ফলে নির্ভয়ে চলছে এই ধ্বংসযজ্ঞ।
’জনতার আলো’র অনুসন্ধানে সেই অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে সরাসরি জড়িত বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তারা হলেন: নওদা ডুমুরের সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম খান, জুয়েল খান, সোহেল খান ও সুমন। কালিঞ্জার শওকত খান। কয়াবিল তালুকদার পাড়ার নবীন তালুকদার সহ আরো বেশ কয়েকজন রয়েছে এই চক্রের সাথে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, এই ব্যক্তিরা স্থানীয়ভাবে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের না ভাঙ্গিয়ে এ সকল অপকর্ম করছে। তারস প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পায়।
ঝুঁকির মুখে জনপদ ও পরিবেশ

পরিবেশবিদদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে: নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিতে পারে। পার্শ্ববর্তী শত শত বিঘা কৃষি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। নদীর জীববৈচিত্র্য ও দেশীয় মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে। ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জরিমানা নয়, এই বালু খেকো চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে জেল হাজতে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় কালিঞ্জা নদী তার অস্তিত্ব হারাবে এবং বিপন্ন হবে হাজারো মানুষের জীবন ও জীবিকা।
এ সকল বিষয়ে জানতে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এসবের সাথে জড়িত প্রশাসনের অসাধু বেশ কিছু কর্মকর্তা ও বালু খেকো চক্রের আরো সদস্যদের ফিরিস্তি নিয়ে বিস্তারিত আসছে দ্বিতীয় পর্বে…..

















