সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৫ প্রবাসীর মরদেহ দাফন
মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি : সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ দীর্ঘ আড়াই মাস পর দেশে ফিরেছে।
ডিএনএ পরীক্ষার দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় স্বজনদের বুকফাটা কান্না ও আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। পরে জানাজা শেষে তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে, এদিন সকাল সাড়ে আটটার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে রিয়াদে নিহত নওগাঁর পাঁচজনসহ সাত বাংলাদেশির মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত নওগাঁর পাঁচ প্রবাসীর হলেন—নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ এলাকার মো. শাহিন, আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান শুভ, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মাসিদুল সরদার সজিব এবং সাধনগর গ্রামের সাগর আলী। অপর দুই নিহত নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দিঘীরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ শামীম ও খাজুরা গ্রামের সাব্বির হোসেন।
প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি কর্মী প্রাণ হারান। আগুনে মরদেহ পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করতে দীর্ঘ সময় লাগে। এর আগে গত ২৭ আগস্ট প্রথম দফায় নয়জনের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছিল।
নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ এলাকার শাহিনের বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যায় মরদেহ পৌঁছানোর পর। সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে চলতি বছরের এপ্রিলে সমিতি থেকে ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সৌদি গিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু দেশ ছাড়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় কারখানার আগুনের লেলিহান শিখা কেড়ে নেয় তাঁর প্রাণ। শাহিনের আট মাসের শিশুকন্যা আয়রা ও সাত বছরের ছেলে হামিমকে নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে স্ত্রী মীম বানুর। স্বামীর রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা টানতে ও সংসার চালাতে এখন অন্যের বাসায় কাজ করতে হচ্ছে তাঁকে। আসরের নামাজ শেষে পার-নওগাঁ মরছুলা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়।
একইভাবে আত্রাই উপজেলার মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিকের বাড়িতেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এক বছর আগে সাত লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ছেলেকে সৌদি পাঠিয়েছিলেন বাবা আক্কাস প্রামাণিক। ঋণ পরিশোধের আগেই ছেলের এমন মৃত্যুতে পাগলপ্রায় পরিবারটি। মাগরিবের নামাজ শেষে স্থানীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে মিনহাজকে দাফন করা হয়। এছাড়া হাসিবুল হাসান শুভ, মাসিদুল সরদার সজিব ও সাগর আলীর মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছানোর পর জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানান, দাফন-কাফনের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিবারপ্রতি ৩৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তিন লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সম্পূর্ণ সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনা খরচে মরদেহগুলো স্বজনদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে জেলা প্রশাসন সব সময় থাকবে।
